ইউক্রেন বাহিনীর হাতে পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলে দুই চীনা নাগরিক আটক হয়েছে। তারা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছিল বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনের আরও অনেক নাগরিক রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে লড়াই করছে। ক্রেমলিন বেইজিংকে এ সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তুলেন তিনি।
জেলেনস্কি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। চীন এ ক্ষেত্রে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তাও স্পষ্ট করতে বলেছেন তিনি। আটক সেনাদের চীন সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল না কি তারা স্বেচ্ছায় এককভাবে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি।
ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কয়েক শ চীনা নাগরিক রাশিয়ার হয়ে লড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও নেপাল ও এশিয়ার বেশ কিছু দেশের নাগরিকও এখন ভাড়াটে সেনা হিসেবে রুশ বাহিনীতে কাজ করছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
এ ছাড়া ফ্রন্টলাইনে উত্তর কোরিয়ার ১১ হাজার ভাড়াটে সেনা লড়ছে। পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে রাজনৈতিক চুক্তি হওয়ার পর তাদের ফ্রন্টলাইনে লড়তে পাঠানো হয়।
জেলেনস্কি জানান, আটক দুই ব্যক্তির কাছ থেকে নথি, ব্যাংক কার্ড ও ব্যক্তিগত ডেটা উদ্ধার হয়েছে। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সংস্থা এসবিইউ সব তথ্য যাচাই করে দেখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় এটিই প্রমাণিত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা নিয়ে রাশিয়ার কোনো আগ্রহ নেই। গত দুই মাসে শান্তি আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইউরোপে চলমান এ যুদ্ধে চীনের ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, পুতিন সবকিছুই করতে রাজি যুদ্ধের অবসান ছাড়া। তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন।’ সূত্র: গার্ডিয়ান