রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৬০০ সেনাসদস্য মারা গেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা দেশের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বুধবার (৩০ এপ্রিল) এ তথ্য জানান। বর্তমানে মোট ১৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার হয়ে লড়ছে।
এ যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার প্রায় চার হাজার সাত শ সেনা হতাহত হয়েছে। আইনপ্রণেতারা জানান, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের লড়াইয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। শুরুতে তারা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সঙ্গে পরিচিত না থাকলেও এখন উত্তর কোরীয় সেনারা ড্রোনের মতো আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা আরও জানান, রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দেওয়ার বিনিময়ে নজরদারি স্যাটেলাইটের জন্য কারিগরি সহায়তা পেয়েছে পিয়ংইয়ং। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়াকে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও সহায়তা করেছে তারা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পিয়ংইয়ং প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় সেনা পাঠানোর খবর নিশ্চিত করে। তারা জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের নির্দেশে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়ার জন্য রাশিয়ায় সেনা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রাশিয়াকে ইউক্রেনের কাছে বেহাত হয়ে যাওয়া ভূখণ্ড উদ্ধারে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করে দেশটি।
রয়টার্সের খবর বলছে, নজিরবিহীনভাবে উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার সেনা মোতায়েন, প্রচুর গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মস্কোকে সহায়তার মতো বিষয়গুলো রাশিয়াকে পশ্চিমের কারস্ক অঞ্চল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়গুলোর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক
সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা জানান, যুদ্ধে মারা যাওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের মরদেহ নিজ দেশে আর ফেরত পাঠানো হয়নি। তাদের সৎকার কারস্কে করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং সেনা ছাড়াও ১৫ হাজার শ্রমিকও রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার বিদেশি অর্থ উপার্জনের অন্যতম একটি উৎস হলো বিদেশে দেশের জনসাধারণকে কাজ করতে পাঠানো। তবে জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওই নিষেধাজ্ঞা অনুসারে দেশটি অন্য কোনো দেশে কাজের জন্য জনবল পাঠাতে পারবে না। সূত্র: রয়টার্স