ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার সারাতোভ অঞ্চলের এক তেল পরিশোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর সেখানে বিস্ফোরণ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও ইউক্রেনের এক সামরিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
এমন একটি সময়ে এসব হামলা চলছে, যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নানাবিধ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
রবিবার ( ১০ আগস্ট) সারাতোভের গভর্নর বলেন, এক ব্যক্তি হামলায় মারা গেছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও এক শিল্প অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তেলের পরিশোধনাগারের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
মস্কো থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক জানান, অতীতের তুলনায় এবার ইউক্রেনের ড্রোন রাশিয়ার ভেতরে আঘাত হানছে। এর আগের হামলাগুলো রাশিয়ার দক্ষিণ ও পশ্চিমেই বেশি চালানো হয়েছে।
ইউক্রেন তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালানোর যে দাবি করেছে তা সত্য কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি আল-জাজিরার প্রতিবেদক।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, গত রবিবার সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে একটি গ্রাম ফেরত নিয়েছে তারা। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য সফলতার দেখা পেয়েছে তারা।
এ ছাড়া সামরিক জেনারেল স্টাফ টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বেজসালিভেকা থেকে রাশিয়ার বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিয়েছে এবং স্বাধীন করেছে। ১৮ জন রুশ সেনাকে লড়াইয়ের পর হত্যা করেছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ চার বছর ধরে চলছে। ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছেন। পুতিনকে সেভাবে এ বিষয়ে রাজি করাতে পারেননি। পুতিন তাকে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন ও রাশিয়ার একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা কমেনি।
তবে দুই দেশ এর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দফা আলোচনায় বসেছে। সে আলোচনার জেরে দুই পক্ষেরই কিছু বন্দি মুক্তি পেয়েছে।
ইউক্রেনের ওপর হামলা হওয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়াকে সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বন্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। সে নির্ধারিত সময়সীমা গত শুক্রবার শেষ হয়েছে।
সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন আগে মস্কো সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার কথা জানান পুতিন। অন্যদিকে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড হাতছাড়া করবে না। তবে রাশিয়া এখনো ক্রিমিয়াসহ বেশ কিছু ভূখণ্ড চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে চাইছেন মাত্র।
গত শনিবারও রাশিয়া ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬ জন। এ ছাড়া বাসে ড্রোন হামলার ঘটনায় সেখানে তিনজন আহত হয়েছেন। রাশিয়া একই দিন ঝাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও হামলা চালায়। সেখানে দুই ব্যক্তি মারা যান। সূত্র: আল-জাজিরা