ইউক্রেনজুড়ে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতভর চালানো এ ব্যাপক হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিহত সবাই রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক মেয়েও রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ইউক্রেনের সাতটি অঞ্চলে প্রায় ৬০০ ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ নৃশংস হামলা প্রমাণ করে মস্কো যুদ্ধ এবং হত্যা চালিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, তারা ইউক্রেনীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী ও শিল্প স্থাপনাগুলোতে আঘাত করেছে। এ হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম তীব্র আকাশ হামলা ছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে ১৩১২ দিন ধরে চলছে।
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেডোরভ বলেছেন, হামলায় ওই অঞ্চলে ৩১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। সুমির আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, গত দিনের হামলায় একজন ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি অঙ্গীকার করেছেন যে, ইউক্রেন পাল্টা আঘাত হানবে যাতে রাশিয়াকে কূটনৈতিক আলোচনায় বাধ্য করা যায়। তিনি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি দৃঢ় প্রতিক্রিয়া আশা করছেন বলে জানান। তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেতে অনুরোধ করেছেন।
ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বলেছিলেন যে, তিনি মনে করেন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে এবং ফলে ইউক্রেন মস্কোর কাছ থেকে হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করতে পারে। তিনি তার ট্রুথ স্যোশালে রাশিয়াকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকলেও শান্তি আলোচনা শুরু করতে ক্রেমলিনের আগ্রহের অভাব দেখে তিনি ক্রমশ হতাশ হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। শনিবার জেলেনস্কি মিত্রদের সতর্ক করে দেন যে, রাশিয়া শুধু ইউক্রেনেই থেমে থাকবে না।
এদিকে, রবিবার ভোরে প্রতিবেশী পোল্যান্ড জেট বিমান উড়ায় যখন রাশিয়া পশ্চিম ইউক্রেনে আঘাত হানে বলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে। পোলিশ সামরিক বাহিনী আরও জানায়, এ পদক্ষেপগুলো প্রতিরোধমূলক। কারণ ১০ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডের আকাশসীমায় পোলিশ এবং ন্যাটোর বিমান তিনটি রুশ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার পর থেকে এটি একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এ সপ্তাহে ডেনমার্ক তাদের বিমানবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ড্রোন ওড়ানো হয়েছে বললেও মস্কো দায় অস্বীকার করে।
এস্তোনিয়া এবং রোমানিয়াও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এ অনুপ্রবেশের পরে, ন্যাটো তার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তকে শক্তিশালী করার জন্য একটি মিশন চালু করেছে। ট্রাম্প তো আরও একধাপ এগিয়ে বলেছেন যে, ন্যাটো দেশগুলোর উচিত তাদের আকাশসীমায় রুশ বিমানগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করা।
শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তার দেশের ইইউ বা ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে আক্রমণ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে মস্কোর দিকে নির্দেশিত যেকোনো আগ্রাসনের প্রতি সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি