ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর কোম্পানিগুলোর তৈরি যন্ত্রাংশ দিয়ে সাজানো।
আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, গত দুই রাতে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় ব্যবহৃত শত শত অস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, তাইওয়ান ও চীনে তৈরি হাজার হাজার উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে।
তিনি লেখেন, “প্রায় ১ লাখ ৬৮৮টি বিদেশি যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলোতে; ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রে ১ হাজার ৫০০টি, খিনজাল ক্ষেপণাস্ত্রে ১৯২টি এবং কালিবার ক্ষেপণাস্ত্রে ৪০৫টি।”
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বর্তমান বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার ফাঁকফোকর বন্ধ করার আহ্বান জানাতে ইউক্রেন ও কিছু ইউরোপীয় দেশ যে তৎপরতা চালাচ্ছে, সেই সময়েই জেলেনস্কি এই অভিযোগ করেন।
বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি—যে দুটি দেশ ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো কেএইচ-১০১ (Kh-101) ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ধরনের ড্রোনে ব্যবহৃত কনভার্টার, মনুষ্যবিহীন বিমান ও খিনজাল ক্ষেপণাস্ত্রের সেন্সর এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাইক্রোইলেকট্রনিক্স তৈরি করে। আর যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো ড্রোনের ফ্লাইট কন্ট্রোলের জন্য মাইক্রোকম্পিউটার উৎপাদন করে।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া ও তার যুদ্ধকে যারা সহায়তা করছে, ইউক্রেন তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুত করছে।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি কোম্পানি ও তাদের পণ্যের বিস্তারিত তথ্য ইউক্রেন তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দীর্ঘদিন ধরেই আহ্বান জানিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সমন্বয়কারীদের বৈঠকের আগেই তিনি আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওলেহ আলেক্সান্দ্রভ গত সপ্তাহান্তে জানান, চীন রাশিয়াকে ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছে—এর প্রমাণ কিয়েভের হাতে আছে। তার ভাষায়, “উপগ্রহের মাধ্যমে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে কৌশলগত লক্ষ্য চিহ্নিত ও বিশ্লেষণে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে উচ্চমাত্রার সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চীনের উপগ্রহের ওপর নির্ভরতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাশিয়ার নিজস্ব সক্ষমতা আছে—এর মধ্যে মহাকাশ প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত—যা দিয়ে বিশেষ সামরিক অভিযানের সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।”
জেলেনস্কি এই বিবৃতি দেন এমন এক সময়, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সন্দেহজনক ড্রোন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অজ্ঞাতনামা মনুষ্যবিহীন বিমান (ড্রোন) সামরিক স্থাপনার ওপর উড়তে দেখা গেছে এবং এর কারণে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। কয়েকটি দেশ রাশিয়ার দিকে আঙুল তুলে বলেছে, মস্কো ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা করছে।
রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন অভিযোগকে উপহাস করে বলেছেন, “যেসব দেশ রাশিয়াকে দায়ী করছে, তারা হাস্যকর আচরণ করছে।”
সোমবার ক্রেমলিন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জের মন্তব্যও “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেয়। মার্জ আগেই বলেছিলেন, তার দেশ মনে করে এই ড্রোন কার্যক্রমের পেছনে রাশিয়ার হাত আছে।
অন্যদিকে, নরওয়ের রাজধানী অসলো বিমানবন্দরে সোমবার অজ্ঞাত এক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর সাময়িকভাবে কয়েকটি অবতরণ বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ অ্যাভিনর। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/