রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের নোভোরোসিস্ক বন্দর থেকে তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২২ লাখ ব্যারেল বা বিশ্ব তেল সরবরাহের প্রায় ২% এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর এটিই অন্যতম বড় হামলা। ইউক্রেন আগস্ট থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে, যাতে মস্কোর যুদ্ধ অর্থায়ন ক্ষমতা কমে।
হামলার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ২% এর বেশি বেড়ে যায়।
ইউক্রেনের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ ও সমুদ্র ড্রোন হামলা এ বছর রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় বারবার আঘাত হেনেছে—বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগরের বন্দর, বড় পাইপলাইন এবং কয়েকটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ইউক্রেন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেছে: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ রাতে রাশিয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ-পাল্লার “লং নেপচুন” ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলা এখন আগের চেয়ে বেশি সফল হচ্ছে। তবে তিনি লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
রাশিয়ার পাইপলাইন তেল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সনেফটও নোভোরোসিস্কে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
কাজাখস্তানে তেল রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত পার্শ্ববর্তী ইউজনায়া ওজেরেইএভকা টার্মিনাল থেকেও তেল লোডিং কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। পরে সতর্কতা প্রত্যাহারের পর কাজ পুনরায় শুরু হয়। এই টার্মিনাল থেকে মাসে ১৪.৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, হামলায় একটি জাহাজ, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং একটি তেল ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি জাহাজের তিনজন নাবিক আহত হয়েছেন।
রুশ লজিস্টিক কোম্পানি দেলো জানায়, ড্রোনের টুকরো তাদের কনটেইনার টার্মিনালে পড়েছে, তবে কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাম্ব্রে জানায়, একটি ক্রেন ও বেশ কিছু কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি নিষেধাজ্ঞামুক্ত কনটেইনার জাহাজও আংশিক ক্ষতির শিকার হলেও ক্রুদের কেউ আহত হয়নি—কারণ তারা নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/