ইউক্রেন ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ শুক্রবার জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি ভবিষ্যৎ চুক্তি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যে এক অঘোষিত সফরে গিয়ে জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জোরদারের আশা প্রকাশ করেন।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধটি এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ সীমিত করতে পারে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় বলে জেলেনস্কি জানান।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন যে তারা তাদের দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত এবং মানুষের জীবন রক্ষায় তারা একসঙ্গে কাজ করতে চান।
জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেন যে সৌদি আরবের এমন কিছু সক্ষমতা রয়েছে যা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ফলে এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মজুত থাকা অস্ত্র ইউক্রেনের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। এমন খবরের পরপরই জেলেনস্কি এই সফরে এলেন।
চলতি মাসে কিয়েভ ২২০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে পাঠিয়েছে। এই বিশেষজ্ঞরা মূলত ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা কীভাবে ঠেকানো যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিনিময়ে ইউক্রেন অর্থ ও প্রযুক্তি প্রত্যাশা করছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ওই বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে জেলেনস্কি সাক্ষাৎ করছেন।
ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফের একজন প্রতিনিধি সেই ভিডিওতে জানান যে বিশেষজ্ঞদের এই দলে বিমান প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং এসবিইউ নিরাপত্তা পরিষেবার কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা ইতোমধ্যে সৌদি কর্মকর্তাদের জন্য কর্মশালা পরিচালনা করেছেন এবং সৌদি জেনারেল স্টাফের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিয়েভ দ্রুত উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়েছে, যা জনশক্তির দিক থেকে রাশিয়ার বিশাল সুবিধাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সাহায্য করছে।
চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন যে পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলে ইউক্রেন দিনে প্রায় ২ হাজার ড্রোন ইন্টারসেপ্টর বা ড্রোন বিধ্বংসী সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/