মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ভবনের ১৫৮টি দোকান বা স্পেস অবৈধভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগপত্র দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দোকান বিক্রির ৩৩ কোটি ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ টাকা আত্মসাতের মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে তৈরি করা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।
অভিযুক্তরা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটির সোপটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলশান-১ এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল আহসান, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ওয়ার্কিং পার্টনার ঢাকার বারিধারার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা কামাল এবং মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ভবনের সাবেক প্রধান প্রশাসক মাহমুদ পারেভেজ জুয়েল।
দুদকের উপপরিচালক অজয় কুমার সাহা মামলাটি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র কমিশনের কাছে জমা দেন। গত মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে অভিযোগপত্রটি অনুমোদন করে কমিশন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আজ তা ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকতারা।
২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান, গোলাম মোস্তফা কামাল এবং মাহমুদ পারেভেজ জুয়েলকে আসামি করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিচালক অজয় কুমার সাহা।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স জায়গাটির মালিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। সেখানে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের মালিক এস এম আলাউদ্দিনের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে কাউকে কিছু না জানিয়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে ১৫৮টি দোকানের পজেশন বিক্রি ও হস্তান্তর করেন। এতে আসামিরা অন্তত ৩৩ কোটি ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব দোকান বিক্রি ও হস্তান্তরের সময় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের মালিক এস এম আলাউদ্দিন বিদেশে অবস্থান করছিলেন। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মাহমুদ পারেভেজ জুয়েলও ওই অপরাধে জড়িত হন।