ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ দুই বন্দুক, এক লক্ষ্য ফাইনালে চোখ আলভারেজের দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে? ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’

পরীমনির মাদক মামলা চলবে

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৯ পিএম
পরীমনির মাদক মামলা চলবে
ছবি : সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় করা মাদক মামলার বিচার চলবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। অ্যালকোহল সেবনের লাইসেন্স থাকায় তার বিরুদ্ধে শুধু অ্যালকোহল রাখার অভিযোগটি বাদ দেওয়া হয়। তবে আইস ও এলএসডির বিষয়ে নতুন করে অভিযোগ গঠন করতে বলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আতাবুল্লার বেঞ্চ। 

শুনানিতে পরীমনির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও শাহ মনজুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে আইস, এলএসডি, অ্যালকোহলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে করা মামলায় পরীমনির ওই বছরের ৫ আগস্ট চার দিন ও ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ১৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই বছর ১৯ আগস্ট আরও এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন।

সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৪ অক্টোবর পরীমনিসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। অপর দুই অভিযুক্ত হলেন পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবীর হাওলাদার। 

এরপর মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনি। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ মার্চ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আজ সেই রুলের নিষ্পত্তি করে রায় দেওয়া হলো।

কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

আইন-আদালতের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে ‘বার্ষিক ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় জগন্নাথ- সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন উৎসবে আমরা আনন্দিত। আমার চাকুরির জীবনে এ পর্যন্ত সাতবার অ্যাসোসিয়েশনের ফল উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘বিচারকদের সৌজন্যে অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবে পূর্বেও অংশগ্রহণ করেছি। চমৎকার এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত বলে জানান।’ 

কোর্ট রিপোর্টার সদস্যরা আইনজীবী ও সাংবাদিক। আইন আদালতের নিয়ম অনুসরণপূর্বক সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আবদুল হালিম, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শ্যাম সুন্দর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বিচাররা। 

এছাড়া মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি মো. ইকবাল হোসেন, বিডিআর হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিনসহ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টাগণ ও কার্যকরি কমিটির নেতারাসহ অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাকারিয়া হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। 

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়ক মন্ডল গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় দেন।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন,  স্ত্রী নুর নাহার, শাশুড়ি ছকিনা বেগম, শ্বশুর নুর মোহাম্মদ ও পরকীয়া প্রেমিক গফুর।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামে স্ত্রী নুরনাহার তার স্বামীকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশ্ববর্তী তার প্রেমিকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নুর নাহার ও তার বাবা-মা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মিলে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে মরদেহ ফেলে রাখেন।
 
পরদিন (১৯ এপ্রিল) কেতাব উদ্দিনের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো ও সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। 
 
গোলাম মওলা সিরাজ/আজহার/
 
 

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস
ছবি: মামুন হোসেন, খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এই মামলা থেকে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য চার আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। 

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসে থাকেন। এরপর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা শুরু করেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের সরাসরি মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড, তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রমের সবশেষ পর্যায়- রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

শাকিলা ববি/অমিয়/

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে
আদালতে তোলা হয়েছে আট আসামিকে। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় পড়া চলছে।

ঘটনার পাঁচ বছর ৯ মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসের ভেতরে ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা করছেন।

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। মামলার আসামিরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এবং আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

তৎকালীন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড। তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর মামলাটি ২০২৫ সালের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

থিওটোনিয়াস/

গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সুউচ্চ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ প্রকাশ করে সম্প্রতি তিনি আলোচিত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট হরিদাসকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১৩ জুলাই) রিমান্ডে নিয়েছে। 

এর আগে হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ‘মানি লন্ডারিং’-এর অভিযোগ এনে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় গত রবিবার দিনগত রাতে গাইবান্ধা থেকে সিআইডির একটি দল হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনে। পরে গতকাল হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবীর হোসেন।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরোনো শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালীমন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি রামমূতি নির্মাণের উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি ও আন্দোলন হয়েছে। 

হরিদাসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা ও গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। 

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। তার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, হরিদাসের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক ধারায় মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরণী দাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। 

সিআইডির দাবি, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন হরিদাস। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ‘সেভ’ করা ভুয়া ফোন কল প্রদর্শন করতেন। 

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা-প্রতিবাদ

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গতকাল এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে এসেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, দেশজুড়ে অহেতুক ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। সেখানে সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য এবং তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের নির্লজ্জতম পরিপন্থি। ঐক্য পরিষদ অনতিবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আশু মুক্তির দাবি জানিয়েছে।