প্রকাশ্যে দিনে-রাতে দুর্ধর্ষ ছিনতাই-ডাকাতিসহ খুন-জখম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীজুড়ে নেমে আসছে একধরনের আতঙ্ক। এরই মধ্যে গত রবিবার রাতে রামপুরার বনশ্রী, ধানমন্ডির শংকরসহ একাধিক স্থানে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় রাতভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। মহানগরীর কোনো কোনো এলাকায় অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত রবিবার রাত ৩টার দিকে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সরকারের উপদেষ্টারাও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে পরিস্থিতি উত্তরণে নানা পদক্ষেপের কথা বলছেন। এ নিয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উপদেষ্টা, সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তার মাঝেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে। গতকালও একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভ আন্দোলন করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে গতকালও আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গভীর রাতে নিজ বাসায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো অনেক ভালো বলেই দাবি করে যাচ্ছেন। এমনকি পদত্যাগের প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে নানা পদক্ষেপের কথাও বলেছেন। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ের বৈঠক শেষে বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে সোমবার (গতকাল) সন্ধ্যার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করছে। সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি টের পাওয়া যাবে।’
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই-ডাকাতি ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে বিচ্ছিন্নভাবে এসব নিয়ে রাজপথে অনেকে প্রতিবাদ আন্দোলন করেন। গত রবিবারও ঢাকাসহ টাঙ্গাইল, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, খুন, ছিনতাই-ডাকাতি রোধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাবি শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে যে ধরনের অপরাধ ঘটছে, সেগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন একটা কৌশলগত গবেষণা হচ্ছে না। অপরাধের কৌশল ও পরিস্থিতি পাল্টেছে, কিন্তু পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আগের গতানুগতিক ভাবধারায় কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকাও দেখা যাচ্ছে না। একধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। আবার তারা (কর্মকর্তারা) বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। এই ধরনের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতা স্বীকার করে পরিস্থিতির কীভাবে উন্নয়ন ঘটানো যায়, সেদিকেই মূল নজর দিতে হবে।’
এ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে সেটা দৃশ্যমান। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর ও কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেকোনোভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’
সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি টের পাবেন: গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে আজ (গতকাল সোমবার) সন্ধ্যার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করছে। সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি টের পাবেন।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষকে আশ্বস্ত করতেই আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে আপনারা পরিস্থিতি টের পাবেন।’
এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বারিধারা ডিওএইচএসের নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। ‘আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে স্থানান্তর হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে তারা প্রচুর টাকা ব্যবহার করছে। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগের যারা এসব কাজ করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেব।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারা চায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। সেটার জন্য যা যা করা দরকার আমি করব। তাহলে তো আর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে, সামনে আরও উন্নতি হবে।’
কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় স্বীকার: এদিকে দেশ পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলাসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে পরিস্থিতি উত্তরণে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রাজশাহীর পিটিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগবিষয়ক কর্মশালায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় আইন উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “র্যাব, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইনটেনসিভ প্যাট্রোল প্রোগ্রাম’ আজ (সোমবার) থেকে কাজ শুরু করবে।”
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম: আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের কথা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শিক্ষা ভবন মোড় ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। দাবি না মানলে আজ মঙ্গলবার তারা মশাল মিছিল করবেন বলেও জানিয়েছেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবি তুলে আন্দোলনকারীরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজকে যারা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রয়েছেন, তারা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি যদি জনগণের সরকার হয়ে থাকেন অবশ্যই এর দায় এড়াতে পারেন না। আমরা এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিতে চাই, এর মধ্যে তাকে সারা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে আমরা মঙ্গলবার মশাল মিছিল বের করে আমাদের যে দাবি তা বাস্তবায়ন করব।’
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজিফা জান্নাত খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাত ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে ডেকে যেভাবে কথা বললেন, তার সঙ্গে আগের মন্ত্রীদের অনেক মিল রয়েছে। আমাদের দাবি স্পষ্ট, সেটা হচ্ছে তার পদত্যাগ। অনেক হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হতে চলেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেননি। যদি নিরাপত্তা না-ই দিতে পারেন, তো চেয়ারে থেকে লাভ কি!’
জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে এ পদযাত্রা করেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। পরে বেলা ৩টা ৫ মিনিট নাগাদ রাজধানীর শিক্ষা ভবন মোড়ে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ভবন মোড়ে আসার আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও আন্দোলনকারীরা সেটি সরিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তাদের আটকে দেন। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
পদযাত্রা শুরুর আগে শহিদ মিনারে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘নারী থেকে নারীতে ছুঁয়ে যাক প্রতিবাদ’।
এর আগে শহিদ মিনারে জড়ো হয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা আজকের কর্মসূচির মূল ব্যানার ও বিভিন্ন পোস্টার-প্ল্যাকার্ড লেখেন। এসব পোস্টার-প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘পাহাড় থেকে সমতল, সকল ধর্ষণের বিচার চাই’, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ধর্ষণের রাজনীতি’, ‘আমরা জন্ম থেকে শহিদ, তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কই’ ইত্যাদি।
রবিবার রাতে যেসব ঘটনা ঘটেছে
রাজধানীতে বেশ কিছু বড় অপরাধের ঘটনা নিয়ে রাতভর উত্তপ্ত ছিল ঢাকা। এর মধ্যে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আলোড়ন তৈরি করে। রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তির সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ফিল্মি স্টাইলে রবিবার রাতে বনশ্রীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়েও গুলি করে ২০০ ভরি স্বর্ণ লুট হয়। এ ঘটনার পর বনশ্রী ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি নিয়ে রবিবার গভীর রাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বনশ্রী ও মোহাম্মদপুরে দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাত ১টা ১০ মিনিটে তাৎক্ষণিক হল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সারা দেশে ধর্ষণ, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এসব পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে সরকারও। তারাও দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের অন্যান্য স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
চট্টগ্রামে আইন ভাঙার মহোৎসব, কোথাও নেই পুলিশ
চট্টগ্রামে দিনে-দুপুরে গোলাগুলি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছে। তবে নাগরিক সমাজের অভিমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগর, জেলা সর্বত্র মাত্রাতিরিক্ত হারে অপরাধ বেড়ে গেছে। মূলত রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা, বালুমহাল দখল, মাটির ব্যবসা, গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব ইত্যাদি কারণে অপরাধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
খুলনায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত চার মাসে অন্তত ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, খুলনা জেলায় জানুয়ারি মাসে রাহাজানি ১টি, চুরি ৬টি, খুন ৩টি, ধর্ষণ ৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ২টি, মাদকদ্রব্যবিষয়ক ৪১টিসহ ১০৩টি মামলা হয়। এর আগে ডিসেম্বরে মামলা হয় ৯৫টি। মহানগরে জানুয়ারি মাসে ডাকাতি ২টি, চুরি ১৪টি, খুন ২টি, অস্ত্র আইনে ৪টি, দ্রুত বিচার ৩টি, ধর্ষণ ৫টি, অপহরণ ২টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৪টিসহ ১৭৮টি মামলা হয়, যা ডিসেম্বরে ছিল ১৪৭টি।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর কারাবন্দি থাকা সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেয়েই তৎপরতা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও কমছে না অপরাধ।
নিরাপত্তা নেই সিলেট নগরীতেও
সিলেটে ইদানীং চুরি, ছিনতাই বেড়েছে। তুচ্ছ কারণে প্রকাশ্যে মানুষকে হেনস্তা করাসহ নানা রকমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সিলেট নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সিলেট নগরীতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কমেছে। অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটলে এখন আর পুলিশকে খবর দিলে তারা আসে না।
রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি
রাজশাহীতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যপক অবনতি ঘটেছে। চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা অনেক ঘটলেও মামলা হয়েছে কম। তবুও গত দুই মাসে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) থানাগুলোতে খুনের মামলা হয়েছে ৫টি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনার দায় স্বীকার করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বরিশালে গত বছরের চেয়ে এ বছর অপরাধ বেশি
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেলার বিভিন্ন থানায় ৭৪৭টি মামলা হয়েছিল। যেখানে ২০২৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৭২০টি। এসব মামলা সূত্রে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, দস্যুতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কমেছে মাদক আইনে দায়ের হওয়ার মামলার সংখ্যা। এই দুই মাসের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে এই চিত্র দেখা গেছে।
যশোরজুড়ে ডাকাতি-লুট ও ছিনতাই-চুরি আতঙ্ক
যশোর জেলাজুড়ে একের পর এক ডাকাতি, লুট, ছিনতাই ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি পুলিশ ফাঁড়ির ২০০ গজের মধ্যেও নৈশপ্রহরীকে বেঁধে ২৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করার ঘটনাও রয়েছে। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কে গত চার মাসে যশোর জেলায় অন্তত ১৩টি দুর্ধর্ষ ডাকাতি, অর্ধশতাধিক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া দুটি স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে সটকে পড়ে ডাকাত দল। এর মধ্যে মাত্র দুই-একটি ঘটনায় পুলিশ আসামিদের আটক করতে পেরেছে। পুলিশ ভূমিকা না রাখার ফলে দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে।