ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চোখে নেই আলো, চারপাশে বানের জল চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ দুই বন্দুক, এক লক্ষ্য ফাইনালে চোখ আলভারেজের দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে? ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’ স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন? আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর ফ্রান্স বধে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, বিশ্বরেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে লা রোজারা লাল কার্ডে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর চাপ আরও বাড়ে: বালোগুন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ‘বিশ্বকাপ জিততে সেরাদেরই হারাতে হবে’ ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে স্পেন ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গেল স্পেন

বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পের নীতি, অস্ত্র দিচ্ছেন ইউক্রেনকে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৮ এএম
বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পের নীতি, অস্ত্র দিচ্ছেন ইউক্রেনকে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

তাহলে কী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ইউক্রেন নীতি বদলে ফেলছেন। ইউক্রেনকে তিনি আবার অস্ত্র সহযোগিতা করতে শুরু করছেন? এমনটি বলার অন্তত দুটি কারণ রয়েছে। এর একটি হচ্ছে, রুশ সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেনের বোমাবর্ষণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরই রুশ সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, গত শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই বললেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। আগে যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে বলতেন, এখন সেখানে ইউক্রেনের পক্ষে অস্ত্র নিয়ে কথা বলা তার ইউক্রেন নীতির বদল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র লাগবে ইউক্রেনের: ট্রাম্প
ইউক্রেনের নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন মন্তব্য করলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে তার ভালো কথাবার্তা হয়েছে। জেলেনস্কির অনুরোধ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে রাজি হবে কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রতিরক্ষার জন্য তাদের এগুলো প্রয়োজন হবে। কারণ তারা বেশ কঠিন আঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।’ ট্রাম্প প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা উল্লেখ করে অস্ত্রগুলোকে ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ইউক্রেনের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলরের সঙ্গেও কথা বলেছেন। কিন্তু অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউক্রেন শহরগুলো রক্ষার জন্য তাদের কাছে অপরিহার্য বলে বিবেচিত মার্কিন সিস্টেমগুলো বিক্রির জন্য ওয়াশিংটনকে তাগাদা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেনে কিছু অস্ত্রের চালান পাঠানো স্থগিত করেছে। কিয়েভ বলছে, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত তাদের রাশিয়ার আকাশ হামলা ও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রতিরোধের সামর্থ্যকে দুর্বল করবে। জার্মানি জানিয়েছে, তারা এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনা নিয়ে কথা শুরু করেছে।

সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছেন। এ সময় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, ইউক্রেনকে পাঠানোর কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্ত্রের চালান স্থগিত করা হয়েছে কি না, তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির কলের বিষয়ে অবহিত এক সূত্র রয়টার্সকে জানায়, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ‘খুব ভালো’ কথোপকথন হওয়ার পর তারা আশাবাদী যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ আবার শুরু হতে পারে।

পুতিনকে নিয়ে হতাশা
যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার পুতিনের সঙ্গে ফোনে হওয়া আলাপ নিয়ে তিনি যে ‘বেশ অসন্তুষ্ট’ বলে জানান। পুতিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করতে অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরেই আমাদের কথা হয়েছে। অনেক কিছু নিয়ে আমরা কথা বলেছি। ইরান নিয়ে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলাপ হয়েছে। কিন্তু এর পরও আমি খুশি হতে পারছি না। যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয় নিয়ে কথাবার্তা একেবারেই এগোয়নি। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চান। অর্থাৎ মানুষ মারা চালিয়ে যেতে চান- এটা ভালো না।’ 

গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে ষষ্ঠবার পুতিনের সঙ্গে তার ফোনে কথা হলো। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে এই আলোচনা চলছে। এই যুদ্ধ তাড়াতাড়ি বন্ধ করার বিষয়ে প্রথম থেকেই আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি এখনো তা করতে সফল হননি।

কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
পুতিনের সঙ্গে ‘হতাশাজনক’ কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রায় সব জেলায় রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে একজন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই কিয়েভের আকাশে ছিল ঝাঁজালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া রেকর্ড ৫৫০টি ড্রোন এবং ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলছে, রাশিয়ার ৫৫০টি ড্রোনের ৭২টিই আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে গেছে। এর আগে গত শনিবার রাতে ৫৩৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। এবার রাশিয়ার ড্রোনের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে এটি নজির। কিয়েভে দফায় দফায় হামলা চলার সময় ৮ ঘণ্টা ধরে বাজানো হয় বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন। হামলার কারণে রাতভর ঘর ছেড়ে ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ থাকতে হয়েছে ইউক্রেনের মানুষকে। একাধিক শহরে শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। অনেক বহুতল ধ্বংস হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। কিয়েভের রেলস্টেশনসহ একাধিক অ্যাম্বুলেন্সে হামলা হয়েছে। পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পরই সরাসরি এই হামলা হলো উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়া আরও একবার দেখিয়ে দিল যে তারা যুদ্ধ অবসানে ইচ্ছুক নয়।’ 

রুশ বিমানঘাঁটিতে হামলা
রাশিয়ার ভরোনেজ প্রদেশের বিমানঘাঁটিতে গতকাল শনিবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। পরপর বোমা ফেলা হয়েছে ঘাঁটি লক্ষ্য করে। তার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সেনারা জানিয়েছেন, ওই ঘাঁটির গ্লাইড বম্বের গুদামে এবং একটি প্রশিক্ষণরত বিমানে বোমা হামলা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিমানে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই বিমানঘাঁটিতেই রয়েছে এসইউ-৩৪, এসইউ-৩৫এস এবং এসইউ-৩০এসএম বিমান; যা ইউক্রেনে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের হামলার পর ভরোনেজের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানান, ইউক্রেন থেকে ছোড়া ২৫টি ড্রোন রুশ বাহিনী ধ্বংস করেছে। হামলার কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। তবে বিমানঘাঁটি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। খবর রয়টার্স।

আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল
ছবি: খবরের কাগজ

দখল করা পূর্ব জেরুজালেমে সামরিক মহড়ার অজুহাতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আল-আকসা মসজিদের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

ওয়াফা জানায়, সামরিক মহড়া চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ ও ইবাদতের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে ইসরায়েল। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েল দখল করা পূর্ব জেরুজালেমে, বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে শহরটির আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে দিয়ে ইহুদীকরণের (জুডাইজেশন) প্রচেষ্টা জোরদার করছে।

ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল এবং ১৯৮০ সালে ইসরায়েলের একতরফা সংযুক্তীকরণকে স্বীকৃতি দেয় না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সু চি কি জীবিত—জান্তার কাছে জবাব চায় বিশ্ব

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
সু চি কি জীবিত—জান্তার কাছে জবাব চায় বিশ্ব
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তিনি আদৌ জীবিত কি না–সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। পরিবার, কূটনীতিক ও আঞ্চলিক নেতারা জান্তা সরকারের কাছে সু চির ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ দাবি করছেন।

৮১ বছর বয়সী সু চিকে সর্বশেষ ২০২২ সালের শেষ দিকে সামরিক আদালতে বিচারের সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে আটক করা হয় এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে তার আইনজীবীদেরও দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ এ দাবি উপস্থাপন করেছেন সু চির ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তারা জান্তা শাসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সু চির জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশ করতে বাধ্য করেন।

লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে অ্যারিস বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো তার মা কার্যত জনসাধারণ থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গেছেন।

গত মাসে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মায়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সু চির বিষয়টি উত্থাপন করেন। মে মাসে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপও জান্তা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানান। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি–সু চির নাম উঠলেই মিন অং হ্লাইং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

১২ জুলাই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সু চির নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কূটনীতিকদের মতে, সু চির অবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা বা তাকে দেখতে দেওয়ার মাধ্যমে মায়ানমার আসিয়ান ও জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে।

এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কাউকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সরকারের দাবি, তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু প্রমাণ হিসেবে তারা শুধু একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে একটি অজ্ঞাত ভবনের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

কিম অ্যারিস ছবিটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, এটি সাম্প্রতিক ছবি–এমন কোনো প্রমাণ নেই। এ ছাড়া যদি সত্যিই তাকে গৃহবন্দি করা হয়ে থাকে, তবে তিনি ইয়াঙ্গুনের পুরোনো বাসভবনে নেই। আর নেপিদোর বাসভবনটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করতে না পারায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কূটনীতিকের আশঙ্কা–মিন অং হ্লাইংয়ের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ দিতে অনীহা হয়তো ইঙ্গিত করছে যে, সু চি মারা গেছেন অথবা গুরুতর অসুস্থ। তবে সবাই এ ধারণার সঙ্গে একমত নন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

দুই দশক পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
দুই দশক পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ২০ বছর পর ভারতের কলকাতায় ফিরতে যাচ্ছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদবিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এবার তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেক্যুলার মিশন এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন (এইচআরবিএফএফ)। আয়োজকদের ভাষ্য, মৌলবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার সম্ভাব্য সফর ঘিরে কলকাতার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ শহরটির সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং নানা বিতর্কে ঘেরা।

২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। তার লেখাকে কেন্দ্র করে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপর কয়েকবার তিনি কলকাতায় ফেরার উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তসলিমা নাসরিন বহুবার বলেছেন, কলকাতাই তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের শহর। তবে ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে প্রায় দুই দশক সেখানে যেতে পারেননি।

নারীর অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তবে ইসলামের রক্ষণশীল ব্যাখ্যার সমালোচনার কারণে অতীতেও তাকে বিতর্ক ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।

ভারতে নির্বাসিত জীবনের অনিশ্চয়তা
১৯৯৪ সালে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হলে বাংলাদেশ ছাড়েন তসলিমা নাসরিন। এরপর কয়েক বছর ইউরোপে থাকার পর ভারতে চলে যান। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় বসবাস করেন। কিন্তু মৌলবাদী গোষ্ঠীর সহিংস বিক্ষোভের মুখে শহরটি ছাড়তে বাধ্য হন। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গে তার বই ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

পরে কিছুদিন জয়পুরে থাকেন তিনি। ২০১১ সালে দীর্ঘ মেয়াদে থাকার অনুমতি নিয়ে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর তার থাকার অনুমতির মেয়াদ নবায়ন করা হলেও বর্তমানে তিনি সুইডেনের নাগরিক।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তসলিমা নাসরিন। জুলাইয়ে তার থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হলেও সেটি নবায়ন হয়নি। সে সময় বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদনপত্রের অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছিলেন না। অনলাইন পোর্টালেও তার আবেদন ‘আপডেটিং’ অবস্থায় দেখাচ্ছিল। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হস্তক্ষেপে তার থাকার অনুমতির মেয়াদ নবায়ন করা হয়। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির নেতা কিম জং উন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং।

দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি পড়ে।

রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

পত্রিকাটি জানায়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।

কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোডং সিনমুন জানায়, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েন।

সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর, সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে।

গত গ্রীষ্ম ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাস ছিল রেকর্ড উষ্ণ।

এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই। সূত্র: এএফপি।

রিফাত/

অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ পুরুষ ও কিশোররা যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘বড় ধরনের ঘাটতি’ রয়েছে বলেও  উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে যৌন হয়রানিমূলক বা সেক্সটর্শন সংক্রান্ত ২ হাজার ২০০টির বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করতে প্রলুব্ধ করে। পরে অর্থ দাবি করে এবং ছবি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষরা। এই বয়সী তরুণদের কাছ থেকে ৮০৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছেলেদের কাছ থেকে ১৮৬টি এবং মেয়েদের কাছ থেকে ৫৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকটককে এমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশি চিহ্নিত করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে ১৬ বছর বয়সী ‘স্যাম’-এর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করার সময় সে ‘জেসিকা’ নামের এক প্রতারকের সঙ্গে পরিচিত হয়।

পরে স্যামকে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি নগ্ন ছবি পাঠাতে বলা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে ২০০ ডলার দিতে বলা হয়। এমনকি  ডলার না দিলে ছবিটি তার অনলাইন পরিচিত সবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে অভিভাবকদের কাছ থেকে ডলার চুরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি’ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘অত্যন্ত জরুরি’।

তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য প্রায়ই দ্রুত অর্থ আদায় করা। তারা ভুক্তভোগীদের অর্থ দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আতঙ্ক, মানসিক কষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এসব প্ল্যাটফর্মকে প্রমাণ দিয়েছি যে, কীভাবে অপরাধীরা তাদের সেবা ব্যবহার করে ভয়াবহ ক্ষতি করছে। অপব্যবহার বন্ধের উপায় সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’

গ্রান্ট বলেন, বিভিন্ন যৌন হয়রানি প্রতারণায় একই ধরনের কৌশল, বার্তা ও ছবি বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এসব শনাক্ত করার দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মগুলোর নেওয়া উচিত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজি শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভাষা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। তবে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের সেবায় এনক্রিপশন ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

গত মার্চ মাসে মেটা জানিয়েছে যে, তারা ইনস্টাগ্রামের ব্যক্তিগত বার্তা ব্যবস্থা থেকে এনক্রিপশন তুলে দেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/