স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা হোয়াইট হাউসে পৌঁছান। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো। আলোচনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো—
প্রথমবারের মতো পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের সম্ভাবনা
ট্রাম্প জানান, তিনি পুতিনকে ফোন করে জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। এরপর তার উপস্থিতিতে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হতে পারে। যদি তা হয় তাহলে এটি হবে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। যদিও এ বিষয়ে ক্রেমলিন থেকে সরাসরি কোনোকিছু জানানো হয় নি। কোথায়, কখন হতে পারে এই বৈঠক সে বিষয়েও চূড়ান্ত হয় নি কিছু।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প ও ইউরোপের মতভেদ
ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার আগে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা খারিজ করে দেন। তবে ইউরোপীয় নেতারা এতে দ্বিমত পোষণ করেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, “আমি কল্পনাও করতে পারি না যে যুদ্ধবিরতি ছাড়া পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। তাই আসুন আমরা এ নিয়ে কাজ করি এবং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করি।”
ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সহায়তা করবে। এ বিষয়ে এর আগে কখনো এতটা দৃঢ়ভাবে কিছু বলতে শোনা যায় নি থাকে। তবে সেই নিশ্চয়তা কোন রূপে দেওয়া হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে- ইউক্রেনে বিদেশি শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েন, যৌথ আকাশ ও সমুদ্র টহল, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বা লজিস্টিক সহায়তা।
স্যুট পরে হোয়াইট হাউজে জেলেনস্কির আগমন
আগের উত্তেজনাপূর্ণ সফরের তুলনায় এদিন জেলেনস্কি ভিন্ন রূপে হাজির হন। তিনি স্যুট পরে হোয়াইট হাউজে উপস্থিত হন, সঙ্গে ছিল তার স্ত্রীর লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি। বৈঠকের প্রথম কয়েক মিনিটেই তিনি ছয়বার “ধন্যবাদ” জানিয়ে ট্রাম্পকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এর আগে বছরের শুরুরে দিকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের মসনদে বসার পর যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে ডাকেন আলোচনার জন্য। সেখানে স্যুট না পরে যাওয়ায় তাকে রীতিমতো অপমান করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সঙ্গে বাগযুদ্ধ ছিল নজিরবিহীন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/