ইট-পাথরের শহর ছেড়ে গ্রামে এসে বসবাস শুরু করছি। সেখানে বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন প্রকারের সবুজ শাকসবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষাবাদ শুরু করেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে শত শত শামুকের দল এসে আমার শাকসবজি ও গাছের কচি কচি পাতা খেয়ে সাবাড় করছে। শামুক এখন প্রকৃতির জন্য বিপদাপন্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির এ শামুকগুলোর খোলস শক্ত ও মোটা এবং তার ভেতরের গোশতও শক্ত। তাই অন্য কোনো প্রাণী এ শামুক খেয়ে কমাতে পারছে না। আমাদের দেশের নদ-নদী, খাল-বিলে ব্যাপক শামুক-ঝিনুক দেখা যেত। এগুলো মাছসহ বিভিন্ন হাঁস, পশুপাখির খাদ্য হিসেবে ছিল ব্যাপক প্রিয়। শীত মৌসুমে অতিথি পাখির খাবার হিসেবে শামুক অত্যন্ত প্রিয়। প্রকৃতিতে শামুক না থাকলে অসংখ্য অতিথি পাখির খাদ্যসংকট দেখা দিত। কিন্তু জলজ প্রাণী এখন জলে না থেকে বাসাবাড়িতে এসে হামলে পড়ছে। অন্যান্য এলাকাতেও ব্যাপকভাবে প্রকৃতির ক্ষতিকর এ শামুক বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। তাদের বিস্তার এতটাই মারাত্মক যে, ধরে ধরে মেরেও তার বংশবিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। শামুক-ঝিনুক হলো নদ-নদী, পুকুর-হাওর, জলাশয়ের প্রকৃতির ফিল্টার। যে নদী ও খাল-বিলে শামুক-ঝিনুক থাকবে না সেখানকার পানি দূষিত হয়ে পড়বে। মূলত নদী-নালার দূষিত পদার্থ খেয়ে পানি পরিশোধনের কাজাটি করে থাকে শামুক-ঝিনুক। কিন্তু এখন যেভাবে শক্ত খোলসের শামুক স্থলে ছড়িয়ে পড়ছে, তা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রোকসানা রহমান
আলীপুর, মোল্লারহাট, কালকিনী, মাদারীপুর
[email protected]